প্রকাশিত: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম
নোয়াখালীতে ফেরি উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নলচিরা ঘাট এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ফেরি উদ্বোধনের খবরে বিএনপি ও এনসিপির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নলচিরা ঘাট এলাকায় জড়ো হন। এ সময় ফেরি চালুর কৃতিত্ব নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকেন।
নলচিরা ঘাট এলাকার বাসিন্দা নাহিদ উদ্দিন বলেন, “ফেরির ক্রেডিট নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি হয়েছে। এক পক্ষ অন্য পক্ষকে এলাকা থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন।”
এদিকে ফেরি উদ্বোধনের সময় এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে হাতিয়া থানা ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ।
তিনি বলেন, “ফেরি উদ্বোধনের সময় নলচিরা ঘাটে এনসিপি নেতৃবৃন্দের ওপর পরিকল্পিতভাবে একটি তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী বাহিনী হামলা চালিয়েছে। বারবার হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হলেও প্রশাসনের ভূমিকা দুঃখজনকভাবে নিষ্ক্রিয়। আগামী দুই ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হলে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে হাতিয়া থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।”
অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাহাবুবুর রহমান শামীম বলেন, “ফেরি চালু হওয়া হাতিয়াবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গেলে এনসিপির সন্ত্রাসীরা বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, “মারামারির খবর পেয়েছি। তবে এখনো আহতদের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
