প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম
জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ইসলামি রাজনৈতিক জোট বর্তমানে ভাঙনের আশঙ্কায় পড়েছে। আসন বণ্টন নিয়ে মতবিরোধের কারণে জোটগত নির্বাচনের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনের অনড় অবস্থান এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
জামায়াতে ইসলামী নিজেদের জন্য প্রায় ৪০টি আসন ধরে রেখে বাকি আসনগুলো শরিকদের মধ্যে বণ্টনে আগ্রহী হলেও ইসলামী আন্দোলন এতে সন্তুষ্ট নয়। দলটির দাবি, তাদের দেশজুড়ে শক্ত ভোটভিত্তি রয়েছে, ফলে তারা আরও বেশি আসনের যোগ্য। এই দাবি থেকে তারা সরে না আসায় একাধিক দফা আলোচনা করেও কোনো সমঝোতা সম্ভব হয়নি। এমনকি জামায়াত অতিরিক্ত কিছু আসন উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাব দিলেও চরমোনাই পীর তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। এর ফলেই জোট ভাঙনের মুখে পড়েছে।
এরই মধ্যে প্রাথমিক সমঝোতার অংশ হিসেবে জামায়াত কয়েকটি আসনে চরমোনাই পীর ও মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন দলের প্রার্থীদের বিপরীতে নিজস্ব প্রার্থী দেয়নি। এতে ওই দলগুলো দরকষাকষিতে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে চলে যায়।
অন্যদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির তুলনায় বেশি আসন দাবি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই উচ্চাকাঙ্ক্ষার কারণেই দলটির সঙ্গেও জামায়াতের চূড়ান্ত ঐকমত্য হয়নি। রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে, শেষ পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস—উভয় দলই ১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে পৃথকভাবে নির্বাচনে যেতে পারে।
মঙ্গলবার জোটের শরিকদের মধ্যে আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত করে যৌথ ঘোষণা দেওয়ার প্রস্তুতি থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো যায়নি।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে জামায়াত আট দলীয় ইসলামি জোটের নেতৃত্ব দিয়ে আন্দোলন ও নির্বাচনী প্রস্তুতি চালিয়ে আসছিল। তবে জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক এনসিপি, অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি এবং এবি পার্টির যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে ১১ দলীয় জোট গঠনের পর থেকেই ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়।
নতুন তিনটি দল যুক্ত হওয়ার পর জোটে অন্যান্য ইসলামি দলের প্রভাব কমতে থাকে। সম্ভাব্য আসন কমে যাওয়ার আশঙ্কায় তারা জোটগত নির্বাচনের ব্যাপারে আগ্রহ হারাতে শুরু করে। এনসিপির অন্তর্ভুক্তির ফলে জামায়াতকে চাপ দেওয়ার সক্ষমতাও তাদের কমে গেছে বলে তারা মনে করছে।
মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময়ের আগে ১১ দলীয় জোট সমঝোতার ভিত্তিতে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিলেও পরদিন দেখা যায়, ৩০০ আসনের বিপরীতে প্রায় ৬০০ প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। জোটের পক্ষ থেকে তখন জানানো হয়, সময় স্বল্পতার কারণেই এমনটি হয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত তালিকা নির্ধারণ করা হবে।
এরই ধারাবাহিকতায় জামায়াত জাতীয় নাগরিক পার্টিকে ৩০টি আসন ছেড়ে দিতে সম্মত হয়, যা এনসিপি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক আলোচনায় খেলাফত মজলিসকে ১৫টির বেশি আসন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। খেলাফত আন্দোলনের আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ১০টি করা হয়েছে। এলডিপিকে ৭টি, এবি পার্টিকে ৩টি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে ২টি আসন দেওয়ার কথাও আলোচনায় এসেছে। তবে জাগপা, নেজামে ইসলাম পার্টি ও খেলাফত আন্দোলনের চূড়ান্ত বরাদ্দ এখনো নিশ্চিত নয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসলামি জোটের ঐক্য টিকে থাকবে নাকি ভেঙে যাবে—সে বিষয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তা ক্রমেই বাড়ছে।
