শুক্রবার ১৬, জানুয়ারি ২০২৬

শুক্রবার ১৬, জানুয়ারি ২০২৬ -- : -- --

বিএনপিকে ভোট দিতে চায় ৩৪.৭ শতাংশ, জামায়াতকে ৩৩.৬ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রকাশিত এক জনমত জরিপে বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া গেছে। জরিপে দেখা গেছে, বিএনপিকে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ৩৪ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটার, আর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামিকে সমর্থন জানিয়েছেন ৩৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এ ছাড়া এখনো সিদ্ধান্তহীন রয়েছেন ১৭ শতাংশ ভোটার।

জরিপ অনুযায়ী, ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টিকে (এনসিপি) ভোট দিতে চান ৭ দশমিক ১ শতাংশ ভোটার, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশকে ৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে সমর্থন দেওয়ার কথা বলেছেন ৪ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬’ শীর্ষক এই প্রাক-নির্বাচনী জনমত জরিপ প্রকাশ করে ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসি (আইআইএলডি)। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রজেকশন বিডি, জাগরণ ফাউন্ডেশন ও ন্যারাটিভের যৌথ উদ্যোগে এ জরিপ পরিচালনা ও ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

জরিপের ফলাফলে আরও দেখা যায়, মোট ভোটারের মধ্যে ৮৬ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের সম্ভাব্য বণ্টন বিবেচনায় নিলে বিএনপির সমর্থন বেড়ে দাঁড়ায় ৪৩ দশমিক ২ শতাংশে এবং জামায়াতে ইসলামির সমর্থন হয় ৪০ দশমিক ৮ শতাংশ।

এই জরিপটি ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত হয়। এতে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার ২৯৫টি সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত মোট ২২,১৭৪ জন নিবন্ধিত ভোটার অংশগ্রহণ করেন। ভৌগোলিক অবস্থান, শহর-গ্রাম বিভাজন ও জনসংখ্যাগত ভারসাম্য নিশ্চিত করতে স্ট্রার্টিফায়েড স্যাম্পলিং ডিজাইন অনুসরণ করা হয় এবং ২০২২ সালের জাতীয় আদমশুমারির তথ্যের ভিত্তিতে পোস্ট-স্ট্রাটিফিকেশন ওয়েটিং প্রয়োগ করা হয়েছে।

ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ ও দলভিত্তিক সমর্থনের কারণ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে ভিন্ন ভিন্ন চিত্র।

বিএনপির ক্ষেত্রে দেখা যায়, দলটির ৭২.১ শতাংশ সমর্থক অতীত অভিজ্ঞতা ও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রশাসনিক সক্ষমতাকেই সমর্থনের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ডেমোগ্রাফিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৩০–৪৪ বছর বয়সী ভোটারদের মধ্যে বিএনপির সমর্থন ৩৮.৪ শতাংশ এবং ৪৫–৫৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ৩৭.৪ শতাংশ। পেশাভিত্তিক বিশ্লেষণে কৃষকদের মধ্যে ৪২.৬৭ শতাংশ এবং শ্রমিকদের মধ্যে ৪০.৬ শতাংশ সমর্থন নিয়ে বিএনপি শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামির সমর্থনের প্রধান ভিত্তি হিসেবে উঠে এসেছে সততা ও পরিবর্তনের রাজনীতি। দলটির সমর্থকদের মধ্যে ৪৪.৮ শতাংশ জামায়াতকে ‘কম দুর্নীতিগ্রস্ত’ মনে করেন এবং ৪০.৭ শতাংশ ‘সততার ভাবমূর্তি’কে সমর্থনের মূল কারণ হিসেবে দেখছেন। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৮–২৯ বছর বয়সী তরুণ ভোটারদের মধ্যে জামায়াতের সমর্থন সর্বোচ্চ, যা ৩৩.৬ শতাংশ। উচ্চশিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মধ্যেও দলটির প্রভাব লক্ষণীয়—স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের মধ্যে জামায়াতের সমর্থন ৩৭.৪ শতাংশ, যা অন্য যেকোনো দলের তুলনায় বেশি। পাশাপাশি ডিজিটাল ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তরুণ ও শিক্ষিত ভোটারদের সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রেও দলটি এগিয়ে রয়েছে।

নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টির (এনসিপি) সমর্থনের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে জুলাই বিপ্লব। জরিপে অংশ নেওয়া এনসিপি সমর্থকদের ৩৬.৭ শতাংশ জানিয়েছেন, ‘জুলাই বিপ্লবে ভূমিকা’ই তাদের দলটিকে সমর্থন দেওয়ার প্রধান কারণ।

জরিপে থাকা ১৭ শতাংশ সিদ্ধান্তহীন ভোটারকে সম্ভাব্য ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদের মধ্যে ৩০.১ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, তারা কোনো রাজনৈতিক দলকেই বিশ্বাস করতে পারছেন না, আর ৩৮.৬ শতাংশ ভোটার কোনো মতামত প্রকাশ করেননি।

সামগ্রিকভাবে জরিপের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের নির্বাচনটি হবে ‘প্রয়োজনের শ্রেণিবিন্যাস’ (বিএনপির অভিজ্ঞতা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা) এবং 'মূল্যবোধের শ্রেণিবিন্যাস' (জামায়াতের সততা ও ন্যায়বিচার)-এর মধ্যে এক দার্শনিক ও রাজনৈতিক লড়াই। একই সঙ্গে ভোটারদের একটি বড় অংশ প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, দুর্নীতি দমন এবং জুলাই অভ্যুত্থানের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানাচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আইআইএলডির নির্বাহী পরিচালক শফিউল আলম শাহিন, রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মুশতাক খান এবং বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী একে এম ফাহিম মাশরুরসহ অন্যান্যরা।

Link copied!
Development by বিডি আইটি এজেন্সি