শনিবার ১৭, জানুয়ারি ২০২৬

শনিবার ১৭, জানুয়ারি ২০২৬ -- : -- --

যে ওষুধ ব্যবহার করে খালেদা জিয়াকে স্লো পয়জনিং করা হয়েছিল

যাপ্র নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৫ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

বেগম খালেদা জিয়াকে পরিকল্পিতভাবে ‘স্লো পয়জনিং’ করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন তার চিকিৎসক ডা. এফ এম সিদ্দিক। তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিভার ফাংশন খারাপ থাকার পরও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই তাকে দীর্ঘদিন মেথোট্রেক্সেট নামের একটি ওষুধ দেওয়া হয়, যা তার ফ্যাটি লিভার রোগকে দ্রুত লিভারের সিরোসিসে রূপান্তরিত করেছে। এই ওষুধটি ধীরে ধীরে তার লিভারের জন্য বিষের মতো কাজ করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন ডা. এফ এম সিদ্দিক।

তিনি বলেন, “বিগত ২৭ এপ্রিল ২০২১ তারিখে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর আমরা বর্তমান মেডিকেল বোর্ড ওনার চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করি। আমাদের তত্ত্বাবধানে ভর্তির সাথেসাথে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আমরা অত্যন্ত বিস্ময় ও উদ্বেগের সাথে দেখতে পাই যে, ম্যাডাম লিভার সিরোসিস রোগে আক্রান্ত এবং মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসার ছাড়পত্রে ওনাকে মেথোট্রেক্সেট নামের একটি ট্যাবলেট আর্থাইটিসের জন্য নিয়মিত খাওয়ার নির্দেশ দেয়া ছিল এবং ওনাকে ভর্তি থাকা অবস্থায় খাওয়ানো হয়েছে। আমরা তাৎক্ষণিক এই ঔষধটি খাওয়ানো বন্ধ করি।”

ডা. এফ এম সিদ্দিক জানান, বেগম খালেদা জিয়া রিউমাটয়েড আর্থাইটিসে আক্রান্ত ছিলেন এবং রিউমাটলজিস্টদের পরামর্শেই তিনি মেথোট্রেক্সেট সেবন করছিলেন। পাশাপাশি তার ফ্যাটি লিভার ডিজিজও ছিল। তিনি বলেন, ম্যাডামের লিভারের অসুখ নির্ণয় করা অত্যন্ত সহজ একটি বিষয় ছিল এবং এর জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়ারও প্রয়োজন ছিল না।

তার ভাষায়, “মেথোট্রেক্সেট খাওয়ালে নিয়মিত রক্তে লিভার ফাংশনের কয়েকটা উপাদান পরীক্ষা করে দেখতে হয় এবং অস্বাভাবিক হলে ঔষধ বন্ধ করে ন্যূনতম পেটের একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম করে লিভারের অবস্থা দেখতে হয়। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, ম্যাডামের লিভার ফাংশন টেস্ট খারাপ দেখার পরও সরকার নির্ধারিত চিকিৎসকরা একটা আল্ট্রাসনোগ্রাম পর্যন্ত করেননি এবং ওষুধটিও বন্ধ করেননি।”

তিনি আরও বলেন, তৎকালীন চিকিৎসকদের ওপর আস্থার অভাবে বেগম খালেদা জিয়া সেখানে আলট্রাসনোগ্রাফি করাতে রাজি হননি। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় তার আস্থাভাজন চিকিৎসকের মাধ্যমে বেডসাইডে পয়েন্ট অব কেয়ার আল্ট্রাসাউন্ড করা যেতো বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ন্যূনতম দায়িত্ব হিসেবে অন্তত মেথোট্রেক্সেট বন্ধ করা উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন ডা. সিদ্দিক।

ডা. এফ এম সিদ্দিক বলেন,“অনেকেই প্রশ্ন করেন ম্যাডামকে কি স্লো পয়োজন করা হয়েছে? আমার উত্তর হচ্ছে: মেথোট্রেক্সেট ছিল সেই ওষুধ, যা তার ফ্যাটি লিভার রোগকে দ্রুত লিভারের সিরোসিসে রূপান্তরিত করেছে। এটি তার লিভারের জন্য ধীরে ধীরে বিষের মতো কাজ করেছে।”

তার মতে, বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় এ ধরনের অবহেলা এবং লিভার ফাংশনের দ্রুত অবনতি তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। তিনি বলেন, “এটা ইচ্ছাকৃত অবহেলা। এটা অমার্জনীয় অপরাধ এবং এটা উনাকে হত্যা করার সুদুর প্রসারি পরিকল্পনার অংশ কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।” একই সঙ্গে ডায়াবেটিস ও আর্থাইটিসের চিকিৎসাতেও অবহেলার সুস্পষ্ট প্রমাণ মেডিকেল বোর্ডের কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ডা. এফ এম সিদ্দিক জানান, বিষয়টি আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে তদন্তের জন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির মাধ্যমে ম্যাডামের চিকিৎসাজনিত অবহেলার তিনটি দিক বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এই তিনটি বিষয় হলো—
১. সরকার কর্তৃক গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা কারা ছিলেন এবং কোন দক্ষতার ভিত্তিতে তারা ম্যাডামের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছিলেন; দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার দায় তাদের ওপর বর্তায় কিনা।
২. ভর্তিকালীন কোন কোন চিকিৎসক তার চিকিৎসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং চিকিৎসায় অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায় কিনা।
৩. মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে ম্যাডাম আইনজীবীর মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিলেন—সে ক্ষেত্রে কেন তা হয়নি বা কারা এতে বাধা দিয়েছিলেন।

সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সংক্রান্ত বিএমইউ’র সব ডকুমেন্ট আইনগতভাবে জব্দ করা এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ারও দাবি জানান তিনি। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ডা. এফ এম সিদ্দিক।

তিনি বলেন, “আমরা জানি জাস্টিস ডিলেইড, জাস্টিস ডিনাইড।”

Link copied!
Development by বিডি আইটি এজেন্সি