প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম
ভারতে গিয়ে খেলতে চাওয়ায় বাংলাদেশকে টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার পর এবার আইসিসি বাংলাদেশের সাংবাদিকদের ওপরও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এবারের টি-২০ বিশ্বকাপ কাভার করার জন্য বাংলাদেশ থেকে আবেদন করা সকল সাংবাদিকের অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, এবার কোনো বাংলাদেশি সাংবাদিকই বিশ্বকাপ কাভার করতে পারবে না।
মাঠের লড়াই শুরুর আগেই মাঠের বাইরের রাজনীতি এবং আইসিসির একগুঁয়েমি বাংলাদেশের ক্রীড়া অঙ্গনে উত্তেজনা তৈরি করেছে। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ কলকাতায় এবং একটি ম্যাচ মুম্বাইয়ে হওয়ার কথা ছিল। বাংলাদেশি মিডিয়ার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাংবাদিক এই খেলার কাভারের জন্য ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।
বাংলাদেশ প্রথমবার ১৯৯৯ সালে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ শুরু করেছিল। সেসময় থেকে প্রতিটি আসরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি সাংবাদিক অংশ নিয়েছেন। এমনকি ১৯৯৯ সালের আগে, যখন বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বিশ্বকাপে উপস্থিত ছিল না, তখনও অনেক সংবাদকর্মী বিশ্বকাপ কাভার করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন। দেশের ক্রিকেটপ্রেমী মানুষ এবং মিডিয়ার আগ্রহের কারণে প্রায় প্রতিটি সংবাদমাধ্যমই সাংবাদিক প্রেরণ করে থাকে।
মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর বাংলাদেশ সরকার, ক্রিকেটার, সমর্থক এবং সাংবাদিকরা নিরাপত্তার কারণে ভারতে খেলার বিষয়ে আগ্রহী ছিল না এবং শ্রীলঙ্কায় খেলার জন্য আইসিসির কাছে বারবার অনুরোধ জানিয়েছিল। এরপরও আইসিসি বাংলাদেশকে ভারতেই খেলার চাপ দিতে থাকে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ জানায়, ভারতে খেলবে না, শ্রীলঙ্কা ছাড়া খেলবে না। এর ফলে বাংলাদেশকে টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া হয়।
সর্বশেষ ঘটেছে আরও এক ধাক্কা। এবারের টি-২০ বিশ্বকাপ কাভারের জন্য অর্ধশতাধিক বাংলাদেশি সাংবাদিকের আবেদন বাতিল করা হয়েছে।
বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসজেএ) সভাপতি আরিফুর রহমান বাবু বলেন,
“এটা আমার জন্য এবং বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদের জন্য অপমানের, গ্লানির এবং ক্ষোভের। আমি হচ্ছি বাংলাদেশের অন্যতম সিনিয়র ক্রিকেট রিপোর্টার। যার ঝুলিতে সাত-সাতটা বিশ্বকাপ কাভার অভিজ্ঞতা রয়েছে, দেশে এবং দেশের বাইরে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাচ্ছি। আমি বিস্মিত ও হতভম্ব যে, বাংলাদেশ বিশ্বকাপে ভারতে গিয়ে খেলতে চায় না, শ্রীলঙ্কায় খেলতে চায়। তাই বলে, বাংলাদেশের রিপোর্টাররা কেন এক্রিডিটেশন কার্ড পাবে না? তাদের ম্যাচ পেতে সমস্যা হবে?”
তিনি আরও বলেন, “আমরা জানি, বিশ্বকাপে এক্রিডিটেশন কার্ডই শেষ কথা নয়। ম্যাচ কার্ডও পেতে হয়। সেই ম্যাচ কার্ড পেতে যদি সমস্যা হতো, আমি কিছু বলতাম না। কিন্তু সন্ধ্যা নাগাদ জানা গেলো, বাংলাদেশের যত অ্যাপ্লিকেন্ট ছিলেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কাভার করার জন্য— সব সাংবাদিকের অপ্লিকেশন বাতিল করা হয়েছে। এটা দেখে আমি বিস্মিত হয়েছি।”
“বাংলাদেশ বিশ্বকাপে না খেললেও, এখানকার সাংবাদিকদের বিশ্বকাপ কাভার করার অধিকার আছে। সেটা ন্যায্য অধিকার। বিশ্বকাপ টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট তো এবার শুধু ভারতে হবে না, শ্রীলঙ্কায়ও হচ্ছে। বাংলাদেশের রিপোর্টাররা ভারতে গিয়ে না করলেও শ্রীলঙ্কায় গিয়েও তো খেলা কাভার করতে পারতেন। কাজেই আইসিসির এমন ন্যাক্কারজনক আচরণ আমি একজন সিনিয়র মোস্ট জার্নালিস্ট হিসেবে ধিক্কার জানাই এবং এতে আমি বিস্মিত।”
“বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্ট’স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসজেএ) বর্তমান সভাপতি হিসেবে আমি সবশেষে বলতে চাই— বাংলাদেশের অপর দুই ক্রীড়া সাংবাদিক সংস্থা বিএসপিএ এবং স্পোর্টস জার্নালিস্ট এন্ড রাইটার্স কমিউনিটির (বিএসজেসি) নেতৃবৃন্দর সঙ্গে কথা বলে অবশ্যই আমাদের একটা প্রতিবাদলিপি দেয়া উচিত।”
“যদিও আমাদেরকে যে মেইল পাঠানো হয়েছে রিজেক্ট করে, সেখানে পরিষ্কার উল্লেখ করা আছে যে, কোনো ফিরতি মেইল দেওয়া যাবে না। এখন বাংলাদেশের তিন অ্যাসোসিয়েশন মিলে সেটা বিসিবি কিংবা তথ্যমন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে- যেভাবেই হোক আইসিসির কাছে একটা প্রতিবাদলিপি পাঠানো উচিত। রীতিমত কারণ জানতে চেয়ে যে, কেন আমাদেরকে সবাইকে রিজেক্ট করা হলো?”
“আমি মনে করি, এটা একপেশে এক ধরণের ঘৃণ্য মানসিকতা। তার মানে ধরে নিতে হবে, বাংলাদেশ ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে চায়নি বলেই এ দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদের বিশ্বকাপ কাভার করার সুযোগ থেকে আইসিসি বঞ্চিত করল। নিন্দা জানানোর ভাষা আমার নেই। আমি মনে করি, এর একটা বিহিত বা একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আইসিসির জানানো উচিত। আমরা যা শঙ্কা প্রকাশ করছিলাম, ক্রিকেট দলের পাশাপাশি বাংলাদেশের মিডিয়াকেও আগামীতে যাঁতাকলে পিষ্ট করতে চায় আইসিসি? সে প্রশ্নই বারবার মনে হচ্ছে আমার।”
এতে স্পষ্ট হয়ে গেছে, টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল না খেললেও আইসিসির ক্রীড়া নীতি ও সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে উত্তেজনা বাংলাদেশের ক্রীড়া অঙ্গনে আরও বেড়ে গেছে।
