প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৪ এএম
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগের দিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) একটি চিঠি পাঠিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। চিঠিতে পিসিবি জানিয়েছে, বর্তমান আঞ্চলিক রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ভারতে খেলতে না চাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অবস্থানকে তারা সমর্থন করছে।
ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফো জানায়, ওই চিঠির অনুলিপি আইসিসি বোর্ডের সদস্যদের কাছেও পাঠানো হয়েছে। এদিকে নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের বিসিবির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার জন্য বুধবার একটি বোর্ড সভা ডেকেছে আইসিসি। তবে এই সভা ডাকার পেছনে পিসিবির চিঠির কোনো সরাসরি ভূমিকা ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পিসিবির চিঠির সময় নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও ধারণা করা হচ্ছে, এতে আইসিসির অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসবে না। আইসিসি আগেই বিসিবিকে জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপের নির্ধারিত সূচিতে কোনো পরিবর্তন করা হবে না এবং বাংলাদেশকে ভারতেই খেলতে হবে। উল্লেখযোগ্য যে, ভারত ও শ্রীলঙ্কা যৌথভাবে এবারের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজক।
বাংলাদেশ সরকারের সমর্থন নিয়ে বিসিবি জানিয়েছে, তারা দলকে ভারতে পাঠাতে পারবে না। এ নিয়ে আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে একাধিক দফা বৈঠক হয়েছে, সর্বশেষটি অনুষ্ঠিত হয় গত সপ্তাহান্তে ঢাকায়। তবে দুই পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় রয়েছে। আইসিসি বলছে, সূচি অনুযায়ীই ম্যাচ হবে, আর বিসিবির বক্তব্য—নিরাপত্তার কারণে ভারতে খেলা সম্ভব নয়। টুর্নামেন্ট শুরুর তিন সপ্তাহেরও কম সময় আগে, ২১ জানুয়ারিকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার শেষ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই অচলাবস্থার মধ্যেই পিসিবির দেরিতে হস্তক্ষেপ নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। এর আগে কিছু যাচাই না–করা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, পিসিবি বাংলাদেশের ম্যাচ পাকিস্তানে আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে। এমনকি গুঞ্জন ছিল, বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হয় তার ওপর নির্ভর করে পাকিস্তানও নিজেদের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ পুনর্বিবেচনা করতে পারে। তবে এসব বিষয়ে পিসিবি প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি এবং ইএসপিএনক্রিকইনফোর প্রশ্নেরও জবাব দেয়নি।
এই সংকটের সূত্রপাত ঘটে যখন বিসিসিআই আইপিএল ২০২৬–এর জন্য কলকাতা নাইট রাইডার্স দল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো না হলেও বাংলাদেশ–ভারতের রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতিকে একটি কারণ হিসেবে দেখা হয়। এর পরপরই বাংলাদেশ সরকার জানিয়ে দেয়, জাতীয় দল ভারতে গিয়ে ম্যাচ খেলবে না।
পরবর্তীতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। দেশের ভেতরে খেলোয়াড়দের একটি বয়কট আন্দোলন শুরু হয়, যার প্রভাব পড়ে চলমান বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল)। এ সময় এক জ্যেষ্ঠ বিসিবি কর্মকর্তার বক্তব্য ঘিরে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অংশ না নিলে বোর্ডের আর্থিক ক্ষতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি শীর্ষ খেলোয়াড়দের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন, যা বয়কট আন্দোলন আরও তীব্র করে তোলে।
