প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:২১ পিএম
সরকারবিরোধী আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইসরায়েল। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পদত্যাগ দাবিতে রাজধানী তেল আবিবের রাস্তায় নেমেছে হাজারো মানুষ। গাজায় নিহত শেষ ইসরায়েলি জিম্মি রন গিভিলির দেহাবশেষ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিও আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ইস্যু।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল এ তথ্য জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার ঘটনায় রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি উঠলেও সরকার তা প্রত্যাখ্যান করে রাজনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত একটি তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছে। এর প্রতিবাদেই বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নামেন। একই সঙ্গে সরকারের বিচারিক সংস্কার পরিকল্পনার বিরোধিতাও জানান তারা। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এসব সংস্কারের মাধ্যমে আদালতের ক্ষমতা খর্ব করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, গাজা যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটানো হামাসের হামলার দায় নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে নেতানিয়াহু প্রশাসন। এর প্রতিবাদে তেল আবিবের বিভিন্ন সড়কে নেতানিয়াহুবিরোধী পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দিতে দেখা যায় আন্দোলনকারীদের।
অনেকে শরীরে ইসরায়েলের পতাকা জড়িয়ে, আবার কেউ প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ব্যঙ্গাত্মক মুখোশ পরে বিক্ষোভে অংশ নেন। একই সঙ্গে হামাসের হাতে নিহত শেষ ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ ফিরিয়ে আনার জোর দাবি তোলা হয়।
এদিন বিক্ষোভে ভাষণ দেন সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর (আইডিএফ) সাবেক প্রধান মোশে ইয়ালোন। তিনি চলতি সপ্তাহে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের ঘটনাবলীর সঙ্গে ইসরায়েল সরকারের আচরণের তুলনা করেন এবং একে ‘কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা’র লক্ষণ বলে আখ্যা দেন।
সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট-কে দেওয়া বক্তব্যে ইয়ালোন বলেন, “ইসরায়েলের সামনে কোনো বাহ্যিক অস্তিত্বগত হুমকি নেই, কিন্তু একটি গুরুতর অভ্যন্তরীণ হুমকি রয়েছে।”
চরম ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভিরকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, “বেন গভির দেখছেন, ইরানে কীভাবে শাসকগোষ্ঠী বিক্ষোভকারীদের দমন করছে—এবং তাতে তিনি ঈর্ষান্বিত।”
এদিকে রন গিভিলির পরিবারের নিজ শহর মেইতারেও একই দাবিতে পৃথক একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
