বুধবার ০৪, মার্চ ২০২৬

বুধবার ০৪, মার্চ ২০২৬ -- : -- --

আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা

যাপ্র নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:০৫ এএম

ছবি: সংগৃহীত

গত কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের তীব্রতা কিছুটা কমে এলেও আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর। বুধবার দেশের মাত্র একটি জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে, যা চলমান শীত মৌসুমে সবচেয়ে কম বিস্তৃত অবস্থা। উত্তরাঞ্চলের সেই জেলা হলো পঞ্চগড়। তবে এদিন রাজধানী ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে।

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার থেকে নতুন করে শৈত্যপ্রবাহের পরিসর বাড়তে পারে। বিশেষ করে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ সময় রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে। এই পরিস্থিতি আগামী শনিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে, ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে শীতের প্রকোপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদফতরের ভাষ্যমতে, কোনো অঞ্চলের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে এলে সেটিকে শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়।

সম্প্রতি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এতে স্পষ্টভাবে শীতের কড়াকড়ি প্রভাব দেখা যাচ্ছে। এই জেলায় টানা ১০ দিন ধরে শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত পঞ্চগড়ে উত্তরের হিমেল বাতাসের কারণে শীতের দাপট এখনও পুরোপুরি কমেনি।

বুধবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৮ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার। ভোর থেকে ঘন কুয়াশায় মাঠঘাট ঢেকে থাকলেও সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের দেখা মেলে। তবে রোদ উঠলেও ঠান্ডা বাতাসের কারণে উষ্ণতার অনুভূতি খুব একটা ছিল না।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওই দিন বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯১ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগও ছিল ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার। সেদিন দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

চলতি জানুয়ারির শুরুতে দেওয়া দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছিল, এ মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মোট পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে অন্তত একটি শৈত্যপ্রবাহ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছিল। জানুয়ারির শুরু থেকেই দেশের নানা এলাকায় শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যদিও গত চার দিনে শীতের তীব্রতা কিছুটা কমে এসেছিল, নতুন করে তাপমাত্রা কমার পূর্বাভাস আবারও শীত বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হঠাৎ তাপমাত্রা কমে গেলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েন শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শ্বাসকষ্টসহ শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত রোগে আক্রান্তরা। শীতের শুরু ও শেষের সময়ে ঠান্ডাজনিত রোগ, জ্বর ও শ্বাসকষ্টের প্রবণতা বেড়ে যায়। তাই এই সময় শীত থেকে সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রাও সামান্য হ্রাস পেতে পারে।

বুধবার আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিকের দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকতে পারে এবং আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। এ সময় দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের কোথাও কোথাও মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশে আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে এবং বিরাজমান শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময় শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। পাশাপাশি সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

এ ছাড়া শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়ও সারা দেশে আংশিক মেঘলা আকাশ ও শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। এ সময় দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যান্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে রাত ও দিনের তাপমাত্রা এদিন প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

Link copied!
Development by বিডি আইটি এজেন্সি