শুক্রবার ১৬, জানুয়ারি ২০২৬

শুক্রবার ১৬, জানুয়ারি ২০২৬ -- : -- --

ইরানে হামলা করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কেন সহজ নয়?

যাপ্র আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম

গ্রাফিক্স: যায়দিন প্রতিদিন

ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর অবস্থানের কথা বললেও বাস্তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক প্রস্তুতির স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। বরং সাম্প্রতিক কয়েক মাসে অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি হ্রাস পেয়েছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, গত অক্টোবরের পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার মোতায়েন নেই। ফলে ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে সম্ভাব্য হামলা চালাতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা স্থায়ী ঘাঁটি কিংবা মিত্র দেশগুলোর সামরিক স্থাপনা ব্যবহার করতে হবে। তবে এসব ঘাঁটি ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করা। ইরানের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলো আলাদা করে শনাক্ত করা সম্ভব হলেও, চলমান বিক্ষোভ ও সরকারের দমন-পীড়ন দেশজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে। এ অবস্থায় ঘনবসতিপূর্ণ শহরাঞ্চলে হামলা চালালে ব্যাপক বেসামরিক হতাহতের ঝুঁকি তৈরি হবে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রকে সমালোচনার মুখে ফেলতে পারে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ ইরান সরকারের জন্য রাজনৈতিকভাবে উল্টো সুবিধা বয়ে আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের ভাষ্য, বিদেশি হস্তক্ষেপের হুমকি দেখিয়ে সরকার অভ্যন্তরীণ বিরোধিতা দুর্বল করতে এবং জাতীয় ঐক্যের বার্তা জোরদার করতে পারে। বিশেষ করে ১৯৫৩ সালে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে সামনে এনে তেহরান সরকার জনসমর্থন পুনর্গঠনের চেষ্টা করতে পারে।

রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের সিনিয়র গবেষক রোক্সেন ফারমানফার্মিয়ান বলেন, ইরানে সরকার, সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে একটি সুসংহত কাঠামো বিদ্যমান। তার মতে, সরকার স্পষ্টভাবে দেখাতে চাইছে যে তারা কোনো সীমারেখা মানছে না এবং সীমান্ত ও সড়ক নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে। সাম্প্রতিক অভিযানে নিহতের সংখ্যা বাড়তে থাকাও সেই কঠোর বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি বিবেচনা করে, তবে তা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। পাশাপাশি এতে ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার কাঠামোতে তাৎক্ষণিক কোনো পরিবর্তন আসার সম্ভাবনাও কম। কারণ খামেনি তার উত্তরসূরি হিসেবে ইতোমধ্যেই তিনজন শীর্ষ ধর্মীয় নেতাকে প্রস্তুত করে রেখেছেন বলে জানা গেছে।

Link copied!
Development by বিডি আইটি এজেন্সি