প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম
ইরানকে সরাসরি বার্তা পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের ওপর সামরিক হামলার কোনো পরিকল্পনা তার নেই। একই সঙ্গে তিনি আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতের বরাতে এই তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম জানিয়েছেন— বুধবার রাত আনুমানিক ১টার দিকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এই বার্তার বিষয়টি জানতে পারেন। বার্তায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধ চান না এবং ইরান যেন এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হামলা না চালায়।
রাষ্ট্রদূত মোগাদ্দাম আরও বলেন, ইরানের জনগণের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে এবং সরকার ইতোমধ্যে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে। তবে একই সময়ে কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী হত্যাকাণ্ডে জড়িত হয়েছে এবং এমনকি মসজিদে হামলার ঘটনাও ঘটিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে চলমান উত্তেজনা নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছে, ফোনালাপে আরাগচি ইরানের সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় ‘দৃঢ় অবস্থান’ নেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্ভাব্য যেকোনো সামরিক উত্তেজনার পরিণতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তুরস্কও ইরান পরিস্থিতি নিয়ে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ইস্তাম্বুলে সাংবাদিকদের বলেন, সংকটের সমাধান অবশ্যই সংলাপের মাধ্যমেই সম্ভব এবং যেকোনো ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চাইলে সরাসরি আলোচনা কিংবা মধ্যস্থতার মাধ্যমে এই সংকট নিরসন করতে পারে। তুরস্ক পুরো পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানান তিনি।
