প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম
হ্যান্ডসেটের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে আমদানিকৃত মোবাইল ফোনের ওপর শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত দুটি পৃথক স্ট্যাটুটরি রেগুলেটরি অর্ডার (এসআরও) জারি করা হয়।
এনবিআরের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, ফিনিশড মোবাইল ফোন আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ২৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। রাজস্ব কর্তৃপক্ষের মতে, মোবাইল ফোনের মূল্য কমিয়ে সাধারণ মানুষের নাগালে রাখা এবং ডিজিটাল সেবার বিস্তার ত্বরান্বিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে আমদানিকৃত হ্যান্ডসেটের শুল্ক হ্রাসের ফলে যাতে দেশীয় মোবাইল সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অসম প্রতিযোগিতার মুখে না পড়ে, সে লক্ষ্যে স্থানীয় কারখানায় ব্যবহৃত কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানিতেও শুল্ক কমানো হয়েছে। পৃথক আরেকটি প্রজ্ঞাপনে এসব উপকরণের শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।
এনবিআর জানিয়েছে, এই দ্বিমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে ভোক্তার স্বার্থ রক্ষা করা হবে, অন্যদিকে দেশীয় মোবাইল ফোন শিল্পের বিকাশের ধারাও বজায় থাকবে। নতুন শুল্ক কাঠামোর ফলে ৩০ হাজার টাকার বেশি দামের একটি আমদানিকৃত হ্যান্ডসেটের দাম গড়ে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ টাকা কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর একই দামের স্থানীয়ভাবে সংযোজিত মোবাইল ফোনের দাম কমতে পারে প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা।
এনবিআর কর্মকর্তারা বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন, ই-গভর্ন্যান্স ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন এখন অপরিহার্য। এসব বিবেচনায় মোবাইল ফোনকে সাধারণ মানুষের নাগালে রাখা সরকারের নীতিগত অগ্রাধিকার। ভবিষ্যতেও প্রযুক্তির বিস্তার ও ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।
এদিকে অবৈধ, নকল ও অনিবন্ধিত হ্যান্ডসেটের ব্যবহার রোধে সরকার ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থা চালু করেছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই ব্যবস্থার আওতায় প্রতিটি মোবাইল ফোনকে আইএমইআই নম্বরের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধন না থাকলে সংশ্লিষ্ট ফোন মোবাইল নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হতে পারবে না।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, এনইআইআর চালুর ফলে চুরি হওয়া কিংবা চোরাচালানের মাধ্যমে আসা হ্যান্ডসেট শনাক্ত ও বন্ধ করা সহজ হবে। পাশাপাশি গ্রে-মার্কেট আমদানি নিয়ন্ত্রণে আসবে, যা বৈধ আমদানিকারক ও দেশীয় প্রস্তুতকারকদের জন্য বাজারে সুস্থ ও ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করবে।
