শুক্রবার ১৬, জানুয়ারি ২০২৬

শুক্রবার ১৬, জানুয়ারি ২০২৬ -- : -- --

দেশ রক্ষার শপথ নিলেন ৩ হাজার ২৩ জন নবীন বিজিবি সদস্য

যাপ্র নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:২২ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

বিজিবির ইতিহাসে নতুন একটি মাইলফলক যুক্ত হলো ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের মাধ্যমে। একসঙ্গে ৩ হাজার ২৩ জন নবীন সদস্য প্রশিক্ষণ শেষে শপথ গ্রহণ করেছেন, যা এ বাহিনীর সর্ববৃহৎ রিক্রুট ব্যাচ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এদের মধ্যে ২ হাজার ৯৫০ জন পুরুষ এবং ৭৩ জন নারী সদস্য রয়েছেন।

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় অবস্থিত বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজে (বিজিটিসিঅ্যান্ডসি) বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। কুচকাওয়াজের স্থান ছিল প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্যবাহী ‘বীরউত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ড’।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নবীন সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। একই সঙ্গে তিনি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন।

এ উপলক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, বিজিটিসিঅ্যান্ডসি’র কমান্ড্যান্টসহ সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সশস্ত্র সালামের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “২৩০ বছরের ঐতিহ্যবাহী বিজিবি আজ একটি সুসংগঠিত, চৌকস, সুশৃঙ্খল ও পেশাদার বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।” তিনি বলেন, “‘সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী’ হিসেবে দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি চোরাচালান, মাদক ও মানবপাচার রোধ, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন, অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় বিজিবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।”

নবীন সৈনিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “শৃঙ্খলাই একজন সৈনিকের প্রধান অলঙ্কার।” তিনি আরও বলেন, “সততা, বুদ্ধিমত্তা, নির্ভরযোগ্যতা, আনুগত্য, তেজ ও উদ্দীপনার সমন্বয়েই বাহিনীর পেশাগত দক্ষতা গড়ে ওঠে।” বিজিবির চার মূলনীতি—মনোবল, ভ্রাতৃত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও দক্ষতা—ধারণ করে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

কুচকাওয়াজে নবীন সৈনিকদের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তাদের পেশাগত জীবনের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন। ১০৪তম ব্যাচে সব বিষয়ে শ্রেষ্ঠ নবীন সৈনিক নির্বাচিত হন আল ইমরান। শারীরিক উৎকর্ষতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন শপিকুল ইসলাম (পুরুষ) ও লুবনা খাতুন (মহিলা)। শ্রেষ্ঠ ফায়ারার হিসেবে নির্বাচিত হন শফিকুর রহমান তামিম (পুরুষ) এবং নাহিদা আক্তার (মহিলা)। প্রধান অতিথি বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

নির্বাচনি নিরাপত্তা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, আসন্ন নির্বাচনে ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং তারা “নির্মোহভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, সারাদেশে সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মিলিয়ে ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন সদস্য নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিজিটিসিঅ্যান্ডসি গত ৪৪ বছর ধরে বিজিবির রিক্রুট প্রশিক্ষণের দায়িত্ব পালন করে আসছে। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত ৭২টি ব্যাচ এখান থেকে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে। সাধারণ প্রশিক্ষণ সক্ষমতা ৭০০ থেকে ১ হাজার জন হলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্দেশনা ও বিজিবি সদর দপ্তরের তত্ত্বাবধানে অবকাঠামো সম্প্রসারণ করে ১০৪তম ব্যাচে একসঙ্গে ৩ হাজার ২৩ জন রিক্রুটকে প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হয়—যা স্বাধীনতার পর একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে নবীন সৈনিকদের একটি দল প্রধান অতিথিকে সশস্ত্র সালাম প্রদান করে। পরে বিজিবির প্রশিক্ষিত সদস্যদের অংশগ্রহণে ট্রিক ড্রিল ও বাদকদলের ব্যান্ড ডিসপ্লে দর্শকদের মনোযোগ কাড়ে।

এ সময় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

Link copied!
Development by বিডি আইটি এজেন্সি