প্রকাশিত: ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:২৭ এএম
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন উগ্রবাদী ও চরমপন্থি ভারতীয়দের দ্বারা নজিরবিহীনভাবে আক্রান্ত হয়েছে। শনিবার স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৯টার দিকে ‘অখণ্ড হিন্দু রাষ্ট্রসেনা’র ব্যানারে একদল উগ্র হিন্দু চরমপন্থী সব নিরাপত্তা বেষ্টনী অতিক্রম করে বাংলাদেশ হাউসের মূল ফটকের সামনে এসে বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা বাংলাদেশবিরোধী স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে হত্যার হুমকি দেয়।
ঢাকা ও দিল্লির একাধিক কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল চার-পাঁচটি গাড়িতে করে সরাসরি কূটনৈতিক এলাকায় প্রবেশ করে বাংলাদেশ হাউসের সামনে অবস্থান নেয়। বিক্ষোভকারীদের কয়েকজন হাইকমিশনারকে উদ্দেশ করে প্রকাশ্যে সহিংস হুমকি দেয়, যা কূটনৈতিক শিষ্টাচারের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
ঘটনার সময় বাংলাদেশ হাউসের দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের কোনো কার্যকর ভূমিকা দেখা যায়নি। বিক্ষোভকারীদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়নি, এমনকি দীর্ঘ সময় স্লোগান দেওয়ার পরও তারা নির্বিঘ্নে এলাকা ত্যাগ করে। ওই সময় হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ ও তার পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশ হাউসেই অবস্থান করছিলেন এবং তারা কার্যত সম্পূর্ণ নিরাপত্তাহীন অবস্থায় ছিলেন।
দিল্লির কূটনৈতিক মহলে এ ঘটনায় তীব্র বিস্ময় প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে চানক্যপুরীর মতো উচ্চ-নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক এলাকায় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কীভাবে এমন বিক্ষোভ সম্ভব হলো—তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানোর পাশাপাশি পাল্টা কূটনৈতিক পদক্ষেপের বিষয়টি ভাবা হচ্ছে। এর মধ্যে দিল্লি ও আগরতলায় বাংলাদেশের ভিসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে বলে নীতিনির্ধারক সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখযোগ্য যে, এর আগে ২০০৪ সালে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েনের সময় বাংলাদেশ হাইকমিশনের দিকে বিক্ষোভের চেষ্টা হলেও সেবার পুলিশ আগেই তা প্রতিহত করেছিল। এছাড়া গত বছরের অক্টোবরে আগরতলায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে উগ্রবাদীরা।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাব তীব্র হওয়ার মধ্যেই দিল্লিতে এই হামলার ঘটনা ঘটল। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। কূটনৈতিক তলব, সীমান্ত পরিস্থিতির অবনতি এবং ভারতের সংসদীয় কমিটির বাংলাদেশের বিষয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ—সব মিলিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক বর্তমানে এক সংকটময় পর্যায়ে পৌঁছেছে।
