শনিবার ১৭, জানুয়ারি ২০২৬

শনিবার ১৭, জানুয়ারি ২০২৬ -- : -- --

শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:৪২ এএম

শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল ৭টার দিকে তিনি স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাষ্ট্রপতি কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে এক হৃদয়বিদারক ও বেদনাময় অধ্যায়। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর, বিজয়ের ঠিক আগমুহূর্তে, দেশের খ্যাতিমান শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, শিল্পী ও সাহিত্যিকসহ বিভিন্ন পেশার বিশিষ্টজনদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।

নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের শেষ প্রান্তে, যখন জাতি স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছায়, তখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তি কমিটির সদস্যরা বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্রে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে লিপ্ত হয়।

পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাত্র দুই দিন আগে, ১৪ ডিসেম্বর রাতে, ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে চোখ বেঁধে বুদ্ধিজীবীদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সান্ধ্য আইনের সুযোগে পূর্বপ্রস্তুত তালিকা অনুযায়ী তাদের নিজ নিজ বাসা থেকে ধরে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

পরদিন সকালে মিরপুর ও রায়েরবাজারের ডোবা-নালা, ইটখোলা ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পাওয়া যায় অসংখ্য মরদেহ। অনেকের শরীরে ছিল গুলির চিহ্ন, আবার অনেককে অমানবিক নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছিল। এই নৃশংস হত্যাযজ্ঞ গোটা জাতিকে স্তব্ধ করে দেয়।

বিভিন্ন ঐতিহাসিক দলিল, পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যমতে, শহিদ বুদ্ধিজীবীর সংখ্যা এক হাজারেরও বেশি বলে ধারণা করা হয়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তারা তাদের মেধা, মনন ও লেখনীর মাধ্যমে স্বাধীনতার সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং জাতিকে অধিকার আদায়ের পথে অনুপ্রাণিত করেন।

শহিদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে প্রথম স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয় ঢাকার মিরপুরে। পরে রায়েরবাজারে শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়, যা ১৯৯৯ সালের ১৪ ডিসেম্বর উদ্বোধন করা হয়।

প্রতি বছর ১৪ ডিসেম্বর গভীর শোক ও শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়। এদিন দেশের সর্বত্র জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় এবং শহিদদের স্মরণে কালো পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে শোক প্রকাশ করা হয়।

Link copied!
Development by বিডি আইটি এজেন্সি