প্রকাশিত: ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:১৭ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে এবং একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ইস্যুতে গণভোটও গ্রহণ করা হবে। ওই দিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন এবং গণভোটের সময়সূচিও নিশ্চিত করেন।
ইসি জানিয়েছে, এবার ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখের বেশি। প্রথমবারের মতো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে পারবেন। ইতোমধ্যে ৩ লাখেরও বেশি প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন করেছেন।
প্রকাশিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ২৯ ডিসেম্বর। মনোনয়ন যাচাই-বাছাই ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের শেষ দিন ১১ জানুয়ারি, আর আপিল শুনানি হবে ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি।
এ ছাড়া ২১ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবেন এবং প্রতীক বরাদ্দ করবেন।
ঘোষণায় আরও জানানো হয়, ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে।
গত ৭ ডিসেম্বর নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে অবহিত করেন সিইসি।
৩০০ আসনভিত্তিক ভোটার তালিকাও চূড়ান্ত করেছে ইসি। এতে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩৪ জন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৩৩ জন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। প্রায় ১৬ মাস পর ইসি জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করল।
এর আগে বিএনপিসহ কয়েকটি দল গত বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন চেয়ে আসছিল। কিন্তু গত ৬ জুন জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস জানান, “নির্বাচন হবে ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধে।” পরে ১৩ জুন লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর দুই পক্ষ “২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে” নির্বাচনে সম্মত হয়। এরপর থেকেই সরকার ধারাবাহিকভাবে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধকে সম্ভাব্য সময় হিসেবে উল্লেখ করে আসছে। সেই অনুযায়ীই প্রস্তুতি নেয় ইসি।
১৩ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা দেন, “জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একই দিনে হবে।” বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সিইসি আনুষ্ঠানিকভাবে সেই সময়সূচি প্রকাশ করেন।
ইসির নিবন্ধিত ৫৬টি রাজনৈতিক দল দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে। তবে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে, ফলে দলটি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। অন্য সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। পাশাপাশি যোগ্য ব্যক্তিরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের ২১ নভেম্বর এ এম এম নাসির উদ্দীনের নেতৃত্বে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটই হবে এই কমিশনের অধীনে প্রথম বড় আয়োজন। একই দিনে দুই ধরনের ভোটগ্রহণকে সময় ব্যবস্থাপনার বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করছে ইসি।
সে কারণে এবার ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে—সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। ভোটকেন্দ্রে গোপন কক্ষের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ব্যবস্থায়ও নেওয়া হয়েছে বাড়তি প্রস্তুতি। সরকার জানিয়েছে, তফসিল ঘোষণার পর সশস্ত্র বাহিনীসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকবে। প্রায় ৯ লাখ সদস্য নিয়োজিত থাকবে—যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্বাচনে সর্বোচ্চ। পাশাপাশি সুষ্ঠু ভোট আয়োজনের জন্য দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
